" পর্দা "-পর্দা কি শুধুমাত্র নারীদের জন্য...?
![]() |
| পর্দা |
পর্দা কি শুধুমাত্র নারীদের জন্য...?
উত্তরঃ না, পর্দা শুধুমাত্র
নারীদের জন্য নয়। পর্দা
পুরুষ এবং নারী উভয়ের
জন্যই। আল্লাহ পুরুষ এবং নারী উভয়কেই
পর্দা করা নির্দেশ দিয়েছেন।
আমরা অনেকেই শুধু নারীদের পর্দার
কথা জানি কিন্তু পুরুষদেরকেও
যে পর্দার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবিষয়টা অনেকেই জানি না। পবিত্র
কোরআন থেকে উল্লেখ করছিঃ-
(১) মহান আল্লাহ তায়ালা
বলেন, হে নবী তুমি
মুমিন পুরুষদেরকে বলে দাওঃ তারা
যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং
তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। (সুরা নুরঃ ৩০)
(২) এর পর মহান
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, হে
নবী তুমি মুমিন নারীদেরকে
বলে দাওঃ তারা যেন
তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং
তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত
করে। তারা যেন যা
সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের
সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং
তারা যেন তাদের মাথার
ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে
রাখে। (সুরা নুরঃ ৩১)
সুতরাং এদুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট
প্রমাণিত হয় যে, পর্দা
শুধুমাত্র নারীদের জন্য নয় বরং
নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই। তবে পুরুষ এবং
নারীরা কিছু কিছু ব্যক্তিদের
ক্ষেত্রে পর্দা মেইনটেইন না করলেও, তাদের
কোন গুনাহ হবে না।
তারা
হলেনঃ-
পুরুষদের মাহরাম অর্থাৎ পুরুষরা যাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং
দেখা করতে পারবেঃ তার
মা, তার খালা, তার
ফুফু, তার শাশুড়ি, তার
দুধ-মা, তার বোন,
তার দাদি, তার নানি, তার
নাতনি, তার দুধ-বোন,
তার মেয়ে, তার ভাই-এর
মেয়ে, তার বোনের মেয়ে
এবং তার ছেলের বউ।
নারীদের মাহরাম অর্থাৎ নারীরা যাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং
দেখা করতে পারবেঃ তার
বাবা, তার চাচা, তার
মামা, তার শশুর, তার
দুধ মায়ের স্বামী, তার নিজ ভাই,
তার দাদা, তার নানা, তার
নাতি, তার দুধ-ভাই,
তার ছেলে, তার ভাই-এর
ছেলে, তার বোনের ছেলে,
তার মেয়ের জামাই এবং তার দুধ
ছেলে।
উল্লিখিত এই কয়েকজন ব্যক্তি
ছাড়া পুরুষ এবং নারীরা, আর
অন্য কারও সঙ্গেই দেখা
করা তো দুরের কথা
বরং কথাও বলতে পারবে
না। তবে যদি একান্ত
জরুরী কোন কারনে শুধুমাত্র
কথা বলার প্রয়োজন হয়,
তবে সেক্ষেত্রে নারীরা পরিপূর্ণ পর্দা মেইন্টেইন করে এবং কোমলতা
পরিহার করে, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়
কথাটুকু অল্প কথার মাধ্যমে
বলতে পারবে। কিন্তু কোনভাবেই দেখা করতে পারবে
না।
আল্লাহ সকল মুসলিম নর-নারীকে পরিপূর্ণ পর্দা করার তৌফিক দান
করুক। আমিন।

No comments